জীবননগর শহরের পোস্টঅফিসপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও পল্লী পশু চিকিৎসক তারেক হাসানকে আটকের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, ওই বাসায় প্রবাসীর স্ত্রী রহিমা খাতুনের সঙ্গে ইউপি সদস্য তারেক হাসানকে দেখতে পেয়ে তারা দুজনকে আটক করেন। এ সময় তারা বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন। তবে রহিমা খাতুনের প্রথম স্বামী সোলায়মানের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবননগর উপজেলার পুরাতন চাকলা গ্রামের সোলায়মানের সঙ্গে ঝিনাইদহের রহিমা খাতুনের বিয়ে হয়। ২০২০ সালে স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে সোলায়মান বিদেশে পাড়ি জমান। এরপর রহিমার সঙ্গে তারেক হাসানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে এ সম্পর্ক চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে, এর আগে কয়েকবার রহিমা তারেক হাসানের সঙ্গে চলে গেলেও পরে তাকে বুঝিয়ে স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সম্প্রতি প্রবাসী স্বামী সোলায়মান দেশে ফেরার পর রহিমা জীবননগর শহরের পোস্টঅফিসপাড়ায় একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানেই তারেক হাসানের সঙ্গে তার যোগাযোগ চলছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
শুক্রবার রাতে তারেক হাসান ওই বাসায় গেলে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন। একপর্যায়ে তারা বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন। পরে উপস্থিত লোকজন তাদের ছেড়ে দিলে রহিমা খাতুন তারেক হাসানের সঙ্গে চলে যান বলে জানা গেছে।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহিমা খাতুনের কাছে একটি পক্ষ ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে—এমন একটি গুঞ্জন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। তবে আটকের ঘটনা, বিয়ের দাবি এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।